দীর্ঘ ৭ বছর পর রাঁচির যুবক ফিরে পেল তার পরিবারকে
দি নিউজ লায়নঃ উত্তর প্রদেশের প্রভু যাদব , মহারাষ্ট্রের খাজা বিবি ,বেল ঘরিয়ার যজ্ঞেশ্বর দাস , রাই বেরেলি জেলার বাসিন্দা ধর্মেদ্র সিং থেকে নলহাটির গোবিন্দ দাস দের মত প্রায় তেতাল্লিশ জন ভব ঘুরে সুস্থ হয়ে নিজ বাড়ি ফিরে পেয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার সীমন্তের লালগোলার বাসিন্দা মাইনুদ্দিনের শেখের যত্ন আর ভালোবাসার পরশ পেয়ে। স্বাভাবিক ভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে দেখলেই এলাকার মানুষ সটান নিয়ে হাজির হন মাইনুদ্দিনের “নব আশ্রয়ে ।” আর তাদের খাবার দিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন বছর পঞ্চান্নের ওই মানুষ টি ।
বুধবার দুপুরে তার উদ্যোগেই বাড়ি ফিরে পেলেন সুবোধ মাঝি ।নিজে সুগারের রুগী তাই নিয়ম করে হাঁট তে যান বাগান ঘেরা কৃষ্ণপুর রেলওয়ে স্টেশান এলাকায় ।বছর সাতেক আগে শীতের এক সকালে লালগোলা থানার প্রসাদপুর গ্রামের বাসিন্দা মাইনুদ্দিন প্রাতঃ ভ্রমনে গিয়ে লক্ষ করেন এক মধ্য বয়স্ক মহিলা প্লাটফর্মের কোনায় যুবুথুবু হয়ে বসে আছেন ।তিনি তাকে নিজ বাড়িতে তুলে নিয়ে যান ।পরবর্তীতে তাকে সুস্থ করে পৌঁছিয়ে দেন তার পরিবারের কাছে, সেই থেকে শুরু ।
আর এখন নব আশ্রয় গড়ে তুলে , আশ্রয় দিচ্ছেন পথ ভোলা এবং মানসিক ভারসামম্য হীনদের ।চিকিৎসা আর আদর যত্ন দিয়ে তাদের সুস্থ করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন একদা ইট ভাটার মালিক মাইনুদ্দিন । ইতিমধ্যে কাউকে পাঁচ মাস তো কাউকে বছর দেড়েকের মাথায় সুস্থ করে ঠিকানায় পৌছয়ে দিয়েছেন তিনি ,সেই সংখ্যাটা এখন বিয়াল্লিশ পেরিয়ে তেতাল্লিশে দাঁড়াল । সেইমতো দিন কয়েক আগে পায়ে ক্ষত নিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন সুবোধ মাঝি কে লালগোলার পথে ঘুরে বেড়াতে দেখতে পেয়ে তুলে আনেন মাইনুদ্দিন ।নব আশ্রয়ের যত্নে ও চিকিৎসায় সুস্থ্য হয়ে ওঠে সুবোধ ।
জানা যায় রাঁচি থেকে শিয়ালদা হয়ে ট্রেনে করে সে চলে আসে এই লালগোলাতে । এদিন মঙ্গলবার তাকেও তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল ।এই ব্যাপারে মাইনুদ্দিনের সহজ সরল উত্তর ,“ এক জন বাবা মা কিংবা তাদের পরম আত্মীয়ের নিখোঁজ হওয়াটা তাদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত বেদনা দায়ক । সেই হারিয়ে যাওয়া সন্তান কে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার আনন্দ থেকেই এই কাজ করি ।” স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য না থাকলে এই কাজ করা সম্ভব হত না এমনটাই দাবি করেছেন নব আশ্রয়ের প্রতিষ্ঠাতা ।

Post a Comment